ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম , ২১ জুলাই, ২০১৭ ।

আমেরিকাকে ‘সীমাহীন এটিএম’ মনে করে পাকিস্তান। মার্কিন আর্থিক সাহায্য নিয়ে সেদেশের ব্যয় করা নিয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের বেসরকারি কনট্রাক্টর রেমন্ড ডেভিস (৪২)। প্রসঙ্গত, কয়েকবছর আগে তাঁকে নিয়ে মার্কিন-পাক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল।
‘দ্য কনট্রাক্টর’ নাম একটি বই লিখেছেন রেমন্ড। সেখানে পাকিস্তানে কীভাবে প্রশাসন চলে এবং মার্কিন সাহায্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়, তার একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
ওই দুই মলাটের মধ্যেই রেমন্ড লিখেছেন, কীভাবে যাবতীয় মার্কিন সাহায্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে শেষ হয়। সিআইএর ওই কনট্রাক্টরের কথায়, পাকিস্তান কোনও অর্থেই সন্তুষ্ট নয়। আমেরিকার থেকে যে পরিমাণ আর্থিক সাহায্য পায়, তা পাকিস্তানের ড্রাগের নেশায় পরিণত হয়েছে। আর ওই নেশা (আর্থিক সাহায্য) ছাড়া পাকিস্তান বাঁচতে পারবে না। রেমন্ড আরও বলেছেন, মার্কিন আর্থিক সাহায্যের পুরোটাই পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে ব্যয় হয়। যেখানে দেশের সিংহভাগ জনসংখ্যা দারিদ্র্যের মধ্যে বিরাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের পুরো ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে বলেও জানিয়েছেন রেমন্ড। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক পাকিস্তানে রাষ্ট্রপ্রধান সেদেশের রাষ্ট্রপতি। আর দেশ চালান প্রধানমন্ত্রী। সবাই জানে দেশের আসল ক্ষমতা হয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। অর্থাৎ আপনি চাইলেও সেনাবাহিনীকে ডিঙিয়ে যেতে পারবেন না। কীভাবে পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্যের পরিমাণ ফি বছর বেড়েছে তাও নিজের বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছেন রেমন্ড। ১৯৫৪-১৯৫৯ সালে যেখানে পাকিস্তানকে দেওয়া মার্কিন সাহায্যের পরিমাণ ছিল ১২৮ কোটি ডলার। সেখানে ২০১১ সালে তা দাঁড়ায় ৬৭০ কোটি ডলার।
এমনকী, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হানার কথা উল্লেখ করে রেমন্ড লিখেছেন, ৯/১১ ঘটনার পর জঙ্গিদমনে পাকিস্তান অর্থ ব্যয় করলে তা আমেরিকা ‘কোয়ালিশন সাপোর্ট ফান্ড’ হিসাবে মিটিয়ে দেয়। যদিও সম্প্রতি সেই নীতিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। আর তাই স্থানীয় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পাক সেনাবাহিনীকে সামান্য ইনসেনটিভ দেওয়া হয়। সিআইএ কনট্রাক্টর আরও বলেছেন, যদি সমস্ত জঙ্গি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তাহলেও পাকিস্তানের সীমাহীন এটিএম হয়েই থাকবে আমেরিকা। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের দুই নাগরিককে হত্যার দায়ে ২০১১ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রেমন্ড। এই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন-পাক কূটনৈতিক সম্পর্কের সংকট দেখা গিয়েছিল।


























