ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ২৫ জুলাই, ২০১৭ ।

ভারত সংসদের ঐতিহাসিক সেন্ট্রাল হলে মঙ্গলবার দুপুর সওয়া বারোটায় শপথ নেবেন দেশের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। উত্তরপ্রদেশের গ্রাম থেকে উঠে এসে দলিত এই নেতাই আগামীকাল থেকে হবেন রাইসিনা হিলের ‘রাজপ্রাসাদে’র নতুন বাসিন্দা। তবে আপাতত কয়েকটা দিন কোবিন্দ থাকবেন রাষ্ট্রপতি ভবনের ‘গেস্ট উইং’য়ে। তারপর পুজো করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য গুছিয়ে বসবেন মূল বাড়িতে।
অতিথি উইংয়ে থাকতে গিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতির যাতে কোনও সমস্যা না হয়, রাষ্ট্রপতিভবনের কর্মীদের তা দেখভালের নির্দেশ দিয়েছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। রামনাথ কোবিন্দ নিরামিষ খান। তাই নতুন রাষ্ট্রপতির রান্নাঘরেও সেই মতোই ব্যবস্থা করতে তৎপর রয়েছেন রাঁধুনি, খানসামারা।
শপথ নিতে যাওয়ার আগে সকালে নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ যাবেন রাষ্ট্রপতি ভবন। সেখান থেকে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণববাবুকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছাবেন সংসদের সেন্ট্রাল হলে। দেশের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর শপথবাক্য পাঠ করাবেন নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে। শপথ গ্রহণের পর ফের উভয়ে একসঙ্গে ফিরবেন রাষ্ট্রপতিভবনে। হবে গার্ড অব অনার।
নতুন রাষ্ট্রপতিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীর অফিসঘর ‘স্টাডি’তে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন প্রণববাবু। তারপর চলে যাবেন নতুন ঠিকানায়। যেখানে অবসর জীবন কাটাবেন তিনি। মন দেবেন লেখায়। স্মৃতিকথায়। প্রণববাবুর নিজের কথায়, ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়ায় প্রত্যক্ষ রাজনীতি এবং সংসদীয় জীবন থেকে সরে গেলেও এইবারই প্রথম প্রকৃত অর্থে ‘অবসর’ নিচ্ছি!
এদিকে, তাঁর নতুন বাড়ি কেমন সেজে উঠেছে, তা দেখতে আজ সকালে ১০ রাজাজি মার্গের বাড়িতে একপ্রকার নিঃশব্দে ঘুরে আসেন প্রণববাবু। দেখে নেন তাঁর বইয়ের তাক, লাইব্রেরির অবস্থা। আর তা দেখেই চিন্তায় পড়েছেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। কারণ, তাঁর যা বইয়ের সংগ্রহ তা আলমারিতে এঁটে উঠছে না। তাই নতুন করে আরও কয়েকটি বইয়ের আলমারি তৈরির অর্ডার দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, আগামীকাল থেকে আজীবনের জন্য প্রণববাবু যে বাড়িতে থাকবেন, সেখানে আগে থাকতেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল কালাম।
তিনি প্রয়াত হওয়ার পর মোদি সরকারের সংস্কৃতি এবং পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মাকে ওই বাড়িটি দেওয়া হয়। পরে তিনি ছেড়ে দেন। ওই বাড়িতে কালাম একটি লাইব্রেরি করেছিলেন। কিন্তু সেই লাইব্রেরিও প্রণববাবুর জন্য কম পড়ছে। নতুন বাড়িতে নিজের সংগ্রহ করা এবং উপহার পাওয়া বই-ই কেবল রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে নিয়ে যাচ্ছেন প্রণববাবু। বাকি দেশ বিদেশ থেকে পাওয়া উপহার সব চলে যাবে সরকারি তোষাখানায়। কিছু ইতিমধ্যেই স্থান পেয়েছে রাষ্ট্রপতিভবনের সংগ্রহশালায়।
তবে আজ মেয়াদকালের শেষদিনটি নিজের মতো কাটানোর চেষ্টা করলেও তা হয়নি বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। রাতে মোদি মন্ত্রিসভার সব সদস্যদের ডাকেন নৈশভোজে। সকালে রাজাজি মার্গের বাড়ি দেখে আসার পর দুপুরে যান সুপ্রিম কোর্টে। ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মানে আয়োজন করেছিলেন বিশেষ লাঞ্চের। সর্বোচ্চ আদালতের সব বিচারপতিই সেখানে হাজির ছিলেন। লাঞ্চ সেরে রাষ্ট্রপতিভবনে যখন ঢুকল কালো মার্সেডিজ বেঞ্চ স্যালুট দিলেন সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। আগামীকালও বিদায়বেলায় ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হবে প্রণববাবুকে।


























