spot_img

অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টারে ইতালি

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম ।।

অতিরিক্ত সময়ে হার্টব্রেক অস্ট্রিয়ার। ৯০ মিনিট যে রক্ষণ ছিল ইতালির পক্ষে দুর্ভেদ্য, অতিরিক্ত সময়ে অস্ট্রিয়ার সেই রক্ষণ একবার নয়, দু-দুবার ভেদ করে ইউরো কাপের শেষ আটে পৌঁছে গেল ইতালি। লন্ডনের ওয়েম্বলিতে অতিরিক্ত সময়ে হল তিন গোল। শনিবার ৩ জুলাই ইতালি সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও বেলজিয়াম ম্যাচে বিজয়ীর বিরুদ্ধে।

নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকায় ইতালি ও অস্ট্রিয়ার প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে। দ্বিতীয়ার্ধে হতাশ করলেও অতিরিক্ত সময়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ইতালি। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে দুই গোলে এগিয়ে ছিল মানচিনির দল। বাজিমাত করলেন পরিবর্ত হিসেবে নামা দুই ফুটবলারই। ৯৫ মিনিটে স্পিনাৎসলার পাস ধরে অরক্ষিত অবস্থায় থেকে ইতালির কাঙ্ক্ষিত গোলটি করে যান ফেদেরিকো কিয়েজা। ১০৫ মিনিটে ইনসিনিয়ের ফ্রি কিক অনবদ্য দক্ষতায় বাঁচান অস্ট্রিয়ার গোলকিপার ড্যানিয়েল বাচম্যান। কিন্তু ম্যাচের ১০৫ মিনিটের মাথায় ইতালির ব্যবধান বাড়িয়ে অস্ট্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন পেসিনা। এবারের ইউরোতে এটি শততম গোল। ম্যাচের ১১৪ মিনিটে সাসা কালাজদজিক ব্যবধান কমান। তাতে অবশ্য ইউরো থেকে অস্ট্রিয়ার ছিটকে যাওয়া রোখা যায়নি।

এই ম্যাচের খেলতে নামার আগে পর্যন্ত ১১টি ম্যাচে ১০৫৫ মিনিট বা ১৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট কোনও গোল হজম করেনি ইতালি। রাউন্ড অব সিক্সটিনে জায়গা আগেই পাকা হয়ে যাওয়ায় ওয়েলস ম্যাচে প্রথম একাদশের বেশ কয়েকজনকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ রবার্তো মানচিনি। এদিনের দলে তাই সাতটি পরিবর্তন এনে শুরু থেকেই খেলানো হয় ডি লোরেনৎসো, আচের্বি, স্পিনাৎসলা, বারেল্লা, বেরার্দি, ইম্মোবিলে ও ইনসিনিয়েকে। অস্ট্রিয়ার কোচ ফ্রাঙ্কো ফোদা অবশ্য ইউক্রেন ম্যাচের প্রথম একাদশই অপরিবর্তিত রেখেছিলেন এদিনের ম্যাচে। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে ইতালি এগিয়ে ছিল। তবে অস্ট্রিয়ার দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভেদ করতে পারছিলেন না ইম্মোবিলে, ইনসিনিয়েরা। বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি মানচিনির দল। ৩২ মিনিটে ইম্মোবিলের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। স্পিনাৎসলা, বারেল্লার গোলমুখী শট বাঁচিয়ে দেন বাচম্যান। প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য।

 

 

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য খোলস ছেড়ে বেরোয় আন্ডারডগ অস্ট্রিয়া। বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ উঠে আসায় বিব্রত ছিল ইতালির রক্ষণ। ইতালিও সুযোগ তৈরি করছিল, কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছিল না। এরই মধ্যে ৬৫ মিনিটে অঘটনের আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছিল আলাবার থেকে বল পেয়ে অর্নাউটোভিচ হেডে তা ইতালির জালে জড়াতেই। তবে ভার প্রযুক্তির সাহায্যে গোল নাকচ হয় অস্ট্রিয়ার। ৬৭ মিনিটের মাথায় লোকাতেল্লি ও পেসিনাকে মানচিনি নামান ভেরাত্তি ও বারেল্লাকে তুলে নিয়ে। ৭৪ মিনিটে পেসিনা লেইনারকে বক্সে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টির দাবি জানায় অস্ট্রিয়া। যদিও তার আগেই অফ সাইডের ফ্ল্যাগ উঠেছিল। ভার-এর সাহায্যে এবারও রক্ষা পায় ইতালি। শেষ ১০ মিনিটে ইতালি সুযোগ তৈরির মরিয়া চেষ্টা চালালেও তা অস্ট্রিয়ার রক্ষণ ভেদ করতে পারছিল না। বাধ্য হয়ে ৮৪ মিনিটে বেরার্দি ও ইম্মোবিলেকে তুলে নিয়ে কিয়েজা ও বেলোত্তিকে নামান মানচিনি। অস্ট্রিয়া দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল বেশি রাখায় সমস্যা বাড়ে ইতালির, শেষের দিকে খেলার গতিও পড়ে যাওয়ায় ফেভারিট ইতালির সমর্থকদের হতাশা বাড়তে থাকে। অস্ট্রিয়ার প্রথম পরিবর্তন আসে ৯০ মিনিটে। বমগার্টনারের জায়গায় নামেন আলেজান্দ্রো শফ। শেষ লগ্নে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি কিক পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ইতালি। দ্বিতীয়ার্ধে ৫ মিনিটের ইনজুরি টাইমের শেষে খেলার ফল গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া যেভাবে অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করে তাতে ফুটবল বিশেষজ্ঞরাও তার প্রশংসা করেছেন। মানচিনির দলকে অনেকটাই ক্লান্ত লাগছিল এবং অস্ট্রিয়ার পারফরম্যান্স হতাশা বাড়াতে থাকে। তবে অতিরিক্ত সময়ের ৫ মিনিটের মাথায় কিয়েজার গোল শেষ আটের দিকে এগিয়ে দেয় ইতালিকে। ব্যবধান বাড়ান আরেক পরিবর্ত পেসিনা।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ