ডেস্ক রিপোর্ট, জনতারআদালত.কম । ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

কক্সবাজারের ইনানী সৈকতে নৌকাডুবিতে ৬০ রোহিঙ্গা মুসলিমের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করল আন্তর্জাতিক সংগঠন। বৃহস্পতিবার মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালানোর সময় বাংলাদেশের জলসীমায় উলটে যায় নৌকাটি। নৌকাটিতে ৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের তরফে জানানো হয়েছে, নৌকাডুবিতে ২৩ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু খবর মিলেছে। আরও অন্তত ৪০ জন নিখোঁজ। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬০ ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা। নৌকার ৮০ জন সওয়ারির মধ্যে ৫০ জনই ছিল শিশু। ফলে মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বুচিডং থানার মইডং গ্রাম থেকে আসা ৩৫ বছর বয়সী আব্দুস সালাম বলেন, এলাকায় তিনি দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। গত সোমবার তাদের গ্রামে সেনাবাহিনীর হামলা শুরু হলে পরিবার নিয়ে পালিয়ে তিনি পাহাড়ে আশ্রয় নেন।
“তিন দিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পার হয়ে বুধবার রাত ৯টার দিকে আমরা নৌকায় উঠি। মাঝির সঙ্গে কথা ছিল, আমাদের দুই পরিববারের ১৪ জনকে নিয়ে আসবে। কিন্তু বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ৬৬ জন যাত্রী তোলে সে।”

সালাম বলেন, নৌকা নিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে ভার কমানোর জন্য তাদের মালপত্রভর্তি বস্তাগুলো সাগরে ফেলে দেন নৌকার মাঝি।
বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের নৌকা ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে। এ অবস্থার মধ্যে মাঝি দিক হারিয়ে ফেলেন এবং এক পর্যায়ে নৌকা উল্টে যায়।

এ ঘটনায় স্ত্রী, এক ছেলে, মা, ভাইয়ের স্ত্রী, সন্তান ও বোনসহ আটজনকে হারিয়েছেন সালাম।
রোহিঙ্গা সঙ্কটের মধ্যে নৌকাডুবির এ খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বড় শিরোনাম হয়।

ঘটনায় কোনও ক্রমে প্রাণে বাঁচা রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, সারা রাত অন্ধকার সমুদ্রে ভেসে বেড়িয়েছি। খাবার ছিল না নৌকায়। হঠাৎই স্রোতের টানে ডুবে যায় নৌকাটি।


























