মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও , জনতারআদালত.কম । ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

বাবা বিয়ে ঠিক করে ফেলেছেন মেয়ে তসলিমার মতামত না নিয়েই। আড়াল থেকে সে কথা শুনে ফেলে চৌদ্দ বছরের কিশোরী মেধাবী ছাত্রী তসলিমা আক্তার। বান্ধবী আর স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় অভিযোগ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট।
অভিযোগ শুনে বাবাকে ডেকে মুচলেকা নিয়ে বিয়ে বন্ধ করলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সম্প্রতি ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী তসলিমা। ক্লাস রোল ১। গত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাংগী উপজেলার দুওসুও বিদ্যালীপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের কন্যা তসলিমা আক্তারের বিয়ে ঠিক করা নিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন।
বিয়ের জন্য একরকম দিন ধার্য করা হয় গতকাল সোমবার। এ সময় পাশের ঘর থেকে কথাগুলো শোনে তসলিমা। পরদিন তসলিমা বিদ্যালয়ে আসার পর তার বান্ধবী সুমনা ও নীলাকে বাল্য বিবাহের কথা বিস্তারিত খুলে বলে এবং সে রাতে (সোমবার) সুমনাদের বাড়িতেই থাকে। রাত্রিবেলা তসলিমা তার বাবা-মা খোজাখুজি করলে তসলিমা আরও ভয় পায়। মঙ্গলবার সকালে দুওসুও উচ্চ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশীদকে ঘটনার কথা জানালে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমানকে মুঠোফোনে অবগত করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আ: মান্নানকে জানালে সাথে সাথে ছুটে যান দুওসুও উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং তসলিমার বাবা-মাকে ডেকে এনে ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজে মেয়েকে বাধ্য করবেন না মর্মে মুচলেকা নেন। জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নিবাহী অফিসার আ: মান্নান বলেন, উপজেলার ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে আট ছাত্র-ছাত্রীকে বাল্য বিবাহসহ আরও ১১টি সমস্যার মোকাবেলার করার জন্য বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে ৫ ঘন্টাব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যত জীবনে তা কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই তাদের নিজ নিজ সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হবে। তারই ফল হিসাবে তসলিমা আজ নিজের বাল্য বিবাহ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। এ অঞ্চলে বাল্য বিবাহরোধে তসলিমা উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


























