spot_img

কোনো অন্যায় মেনে নিবোনা ; চূড়ান্তভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে হবে

কক্সবাজার প্রতিনিধি , জনতারআদালত.কম । ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ।

প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদারবাহিনী আমাদের ঘর পুড়িয়েছে, সেসময় আমরা সব হারিয়েছি। এরপরও ভেঙ্গে পড়িনি। আপনারও ভেঙ্গে পড়বেন না, নিজের দেশে অবশ্যই ফিরতে পারবেন।

মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে গিয়ে তিনি মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের দেশের নাগরিক অন্যের দেশে থাকা সম্মানজনক নয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শান্তি চাই। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমরা সু-সম্পর্ক চাই। কিন্তু কোনো অন্যায় আমরা মেনে নিতে পারি না।

চূড়ান্তভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে। জাতিসংঘ ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা চাই বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘর পোড়ানোর যন্ত্রণা অনুধাবন করতে পারি বলেই মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। যতটুকু পারি আশ্রিতাদের সহযোগিতা দেব। তবে   বিশ্ববাসীকেও আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। এ আশা করি।

এসময় তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের যেন কষ্ট না হয়, তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কেউ যেন ভাগ্য গড়তে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উখিয়ায় আসেন।

এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি এবং আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক আগে থেকেই উখিয়ায় উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ১৯০৯ ফ্লাইটটি অবতরণ করে কক্সবাজার বিমানবন্দরে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দরে অবতরণের পর সেখান থেকে সড়কপথে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সেখানে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন ।

এদিকে বিদেশি শরণার্থী শিবির হলেও নানা কারণে অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। তাই প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি সদস্যরাও নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছেন।

একই সঙ্গে সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তৎপর রয়েছে। কয়েক হাজার নিরাপত্তাকর্মী ক্যাম্পের ভেতর ও বাইরে দায়িত্বপালন করছেন।জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ