spot_img

দোয়া, ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল

ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম ।। 

রাজধানী ঢাকার সকালটা আজ ছিল ধূসর। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে জিয়া উদ্যান। প্রকৃতি যেন নিজেই নীরব শোকে আচ্ছন্ন। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার বুক চিরে একটি জায়গায় ভিড়, আবেগ, ভালোবাসা আর মানুষের দীর্ঘশ্বাস-বেগম খালেদা জিয়ার কবর।

দাফনের চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্মৃতির টান কমেনি। বরং কুয়াশাকে উপেক্ষা করেই সকাল থেকে মানুষ ছুটে আসছেন প্রিয় নেত্রীর সমাধিস্থলে। কেউ ফুল হাতে, কেউ শুধু নিঃশব্দ দোয়া নিয়ে।

আজ সমাধিস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর নানা প্রান্ত এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে আসছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রিয় নেত্রীকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

ফুলে ঢেকে যাচ্ছে কবরের বেদি। কেউ মাথা নিচু করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ চোখ বন্ধ করে দোয়ায় মগ্ন। পাশের মাইক থেকে ভেসে আসছে পবিত্র কোরানের তিলাওয়াত। সেই ধ্বনি যেন কুয়াশার মধ্যেও হৃদয়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

কবরের পাশে স্থাপিত ছোট মঞ্চে মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা কোরআন পাঠ করছেন। বাতাসে ভেসে থাকা সেই আয়াতের সুর পুরো পরিবেশকে আরও ভারী ও আবেগময় করে তুলেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, “খালেদা জিয়া আমাদের কাছে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন-তিনি আমাদের বিশ্বাস, সাহস আর ভালোবাসার নাম। তাঁর আদর্শেই রাজনীতির পথে এসেছি। তাই তাঁর কবরেই বারবার ফিরে আসি।”

রায়েরবাগ থেকে আসা রাফিউল বাসসকে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন নির্ভেজাল নেত্রী। তিনি নিজের জন্য কিছু চাননি, বরং আজীবন দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলেছেন। আজ এখানে এসে মনে হচ্ছে- আমরা আমাদের নেত্রীর কাছে অতি সামান্য হলেও ঋণ শোধ করছি।”

এক তরুণ কর্মী কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ নীরবে। তিনি বাসসকে বলেন, “খালেদা জিয়ার চলে যাওয়া এখনো বিশ্বাস করতে পারি না। যখন বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই তাঁকে দেখে আসছি। তাঁর বক্তব্য শুনেছি, মিছিলে হেঁটেছি। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”

বিএনপির পাশাপাশি সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

কুয়াশার শহরে এই কবর আজ শুধু একটি সমাধি নয়। এটি হয়ে উঠেছে ভালোবাসা, রাজনীতি আর স্মৃতির এক নীরব মিলনস্থল- যেখানে মানুষ বারবার ফিরে আসে, চোখ ভেজায়, মন হালকা করে।

ঘন কুয়াশায় মোড়া এই শহরে সমাধিস্থলটি আজ আর নিছক একটি কবর নয়। এটি যেন স্মৃতি আর ভালোবাসার এক নীরব আশ্রয়। এখানে এসে মানুষ কথা না বলেও অনেক কিছু বলে ফেলে- চোখের জলে, নিঃশব্দ প্রার্থনায়, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার ভেতর দিয়ে।

এই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ হারানো নেত্রীকে খোঁজে, কেউ নিজের বিশ্বাসকে নতুন করে শক্ত করে। কেউ আবার সন্তানের হাত ধরে দেখিয়ে দেয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কুয়াশা যত ঘনই হোক, মানুষের হৃদয়ের এই টানকে ঢেকে রাখতে পারে না।

দিন পেরোয়, সময় এগোয়। কিন্তু ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর স্মৃতির এই ঠিকানায় মানুষের ফিরে আসা থামে না।

বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে কোটি মানুষের আবেগ, বিশ্বাস আর শেষ শ্রদ্ধার।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_img

সর্বশেষ