জুলফিকার আলী শাহীন, পূর্বধলা ,
জনতারআদালত.কম , ১০ আগষ্ট, ২০১৭ ।

গত বুধবার নেত্রকোনার পূর্বধলায় প্রধান শিক্ষকের বেত্রাঘাতে আহত শিল্পী আক্তার (১৪) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। শিল্পী উপজেলার আগিয়া গ্রামের আলাল উদ্দিনের মেয়ে।
এ ঘটনায় আলাল উদ্দিন গত বুধবার রাতে পূর্বধলা থানায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জামান মিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার দিন আহত ৯ছাত্রীর মধ্যে দুই জনকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলেও অজ্ঞাত কারণে গুরুতর আহত ছাত্রী শিল্পীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পরে তার অবস্থা অবনতি হলে ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর শিল্পীর অবস্থার আরও অবনতি হলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে, উপজেলা মধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অভিযুক্ত শিক্ষক বদরুজ্জামান মিন্টুকে কারন দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জানা যায়, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার নগন্য। বিদ্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অভিরঞ্জন দেব এ ব্যপারে বলেন, শিক্ষক বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে সপ্তম শ্রেণির ৯ছাত্রীকে অফিসে ডেকে নিয়ে বেধরক পিটিয়ে আহত করেন। এতে উপজেলার বিষমপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে লাভলী আক্তার (১৪), আগিয়া গ্রামের আফতাব উদ্দিনের মেয়ে তানজিলা আক্তার (১৪) ও আলাল উদ্দিনের মেয়ে শিল্পী আক্তার (১৪) জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে লাভলী ও তানজিলাকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। আহত মনি, নিলা, শিমু, শিল্পী, সুমাইয়া, হালিমা ও স্বর্ণাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ইতোপূর্বে অভিযুক্ত শিক্ষক বদরুজ্জামান মিন্টু বিদ্যালয়ের সমাবেশে (এসএমলী) অংশ না নেওয়ার অপরাধে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম তালুকদার ও রুবেল মিয়াকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। নাঈম উপজেলার কৈলাটি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ও রুবেল একই গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে। সে সময় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি মিমাংসা করেছিলেন।


























