ডেস্ক রিপোর্ট , জনতারআদালত.কম , ৯ আগষ্ট, ২০১৭ ।


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে ফের হুমকি দিল চীন। বলা হল, ডোকালাম থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে উত্তরাখণ্ডের কালাপানি বা কাশ্মীরে চীনা সেনা প্রবেশ করবে।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই হুমকি দিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসাগরীয় এবং সীমান্ত বিষয়ক দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর ওয়াং ওয়েনলি।
গত ৫০ দিন ধরে সিকিম সেক্টরের ডোকালাম এলাকা নিয়ে চীন-ভারতের মধ্যে বাদানুবাদ চলছে। ডোকালামে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সড়ক নির্মাণের চেষ্টা আটকে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বেজিং দাবি করেছে, সিকিমের ওই এলাকা চীনের অন্তর্ভুক্ত। নিজেদের এলাকার মধ্যেই রাস্তা তৈরি করছিল পিএলএ। কারণ, ভুটান ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে ডোকালাম চীনের অংশ।
এই নিয়ে বেজিংয়ের সঙ্গে থিম্পুর কোনও বিবাদ নেই। ওয়াং ওয়েনলি দাবি করেছেন, যদি ওই চত্বরে একজন ভারতীয় সেনা থাকে, তাহলেও আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীন অখণ্ডতা বিঘ্নিত হবে। এই পরিস্থিতিতে আলোচনা অসম্ভব। আমাদের দেশের মানুষ মনে করছেন, সরকার অযোগ্য। যতদিন পর্যন্ত ভারত সরকার ডোকালাম থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে, ততদিন পর্যন্ত কোনও বৈঠক হবে না।
উত্তরাখণ্ডের কালাপানি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত এবং নেপালের মধ্যে বিবাদ চলছে। সেই ইস্যু তুলে নয়াদিল্লিকে খোঁচা দিল চীন। ওয়েলিং বলেন, ভারতেরও একাধিক ত্রিমুখী দুর্বলতা আছে। এখন আমরা যদি সেই ত্রিমুখী ইস্যুকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করি, তাহলে নয়াদিল্লির খুব একটা ভালো লাগবে না। কালাপানিতে নেপাল এবং ভারতের বিবাদকে অজুহাত করে যদি সেনা পাঠাই অথবা কাশ্মীরে ভারত-পাক বিবাদকে ইস্যু হিসাবে তুলে ধরি, তাহলে নয়াদিল্লি কীভাবে তার মোকাবিলা করবে ?
ভারত এবং চীনের মধ্যে যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা খারিজ না করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে আমরা নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখব। যদি ভারত সরকার ভুল পথে হাঁটে বা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে পিপলস লিবারেশন আর্মি আইন মেনেই কাজ করবে।


























