মো. অহিদুর রহমান , স্টাফ রিপোর্টার
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে কৃষিক্ষেত্রে নানা সংকট। অতিরিক্ত গরম,ঠান্ডায় অভিযোজন করতে পারছেনা খাদ্যযোদ্ধারা। কৃষকেরা কৃষিকেন্দ্রিক সংকট মোকাবেলায় সংগ্রাম করে টিকে আছে যুগের পর যুগ। বিগত দুবছর যাবৎ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের নিত্য দিনের চাহিদা পূরণ করতেও ব্যর্থ হচ্ছেন। এ বছর অতিরিক্ত গরমে অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে।একের পর এক দুর্যোগ সামলে উঠতে পারছেন না। জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব গ্রামের কৃষকরা বার বার কৃষি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, জীবিকা, পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্থতার সম্মুখিন হচ্ছেন। জীবিকার তাগিদে টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজেদের জ্ঞান,অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজ বাড়ির আঙিনাতেই বারমাস সবজী উৎপাদনের জন্য চেষ্টা করছেন অনেক কৃষক।তেমনি এক উদ্যোগী কৃষক ইসলাম উদ্দিন।
তিনি বলেন, “নতুন বাড়ি লইছি ৪/৫ বছর অইছে আমার নাতি নাতনি যেন বড় হয়ে কইতে না পারে দাদা আমাদের জন্য কোন ফলের গাছ লাগায় নাই।এই জন্য আমি চেষ্টা করে যাচ্চি।” কথা গুলো বলছিলেন নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের পাড়াদূর্গাপুর গ্রামের মো: ইসলাম উদ্দিন (৫০+)। পরিবারে সদস্য চারজন তার বাড়ির আয়াতন ১৫ শতক বাড়ির চারপাশে পরিকল্পিত ভাবে সারি সারি করে ফলজ,বনজ,ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন। আম,কাঁঠাল, লিচু, জাম, পেঁপে, পেয়ারা, অড়বড়ই, আমলকি, জলপাই, নারিকেল, কামরাঙ্গা, বড়ই, কমলা, মালটা, জামরুল, ডালিম, বিলেম্বু, চালতা, লেবু,কলা, সুপারি,সজনে,নিম,কদম,ও বসতভিটায় রছর ব্যাপী মৌসুম ভত্তিক স্থানীয় জাতের বিভিন্ন শাক সবজি ফসল চাষাবাদ করেন ও বীজ সংরক্ষণ করেন। সীম, লাউ, চালকুমড়া, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, করলা, কাকরুল, পুইশাক, বরবটি, মিষ্টিকুমড়া, ঢেরস, ধুন্দল, ডাটা,কচু,বারোমাসি মরিচ,বারোমাসি বেগুন জৈব কৃষিচর্চার মাধ্যমে ইসলাম উদ্দিন ও তার স্ত্রী দুজনই এ কাজকরে থাকেন। নিজেদের পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও বিক্রি করে বাড়তি কিছু আয় ও করে থাকেন।
তিনি বলেন, “বারো মাসে বারো ফল খেতে হয়। প্রতি মৌসুমেই আলাদা আলাদা শাক হয়, ফল হয়, সবজী হয় এক একটি সবজী এক এক ধরনে উপকার করে।আমি আমার পছন্দের খাবার,বিষমুক্ত খাবার আমার বাড়ির আঙিনা থেকেই খেতে পারি। বাজার যেতে হয়না। বাড়ির প্রতিইঞ্চি জায়গা আমি সবজী উৎপাদনে ব্যবহার করি। মাটি তো আমাদের সম্পদ। যেখানে বীজ রাখি সেখানেই ফসল হয়।”


























