মাহমুদুল হাসান রতন, ময়মনসিংহ ,
জনতারআদালত.কম । ৮ জুলাই, ২০১৭ ।

টানা তিনবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৪ সালে নিজ ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সভাপতি ও পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা -৫ (পূর্বধলা) আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন।
এক সাক্ষাৎকারে আহমদ হোসেন বলেন, ত্যাগী কর্মীরাই আওয়ামী লীগের প্রাণ। চার দশকের বেশি সময় আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রত্যক্ষভাবে এ প্রমাণ পেয়েছি। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় আওয়ামী লীগের দুঃসময় ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দিশাহারা আওয়ামী লীগকে নিয়ে স্বৈরাচারী সামরিক সরকারের সঙ্গে দলের ভেতরের কুচক্রীরাও নানামুখী খেলা খেলেছেন। সেই সময়ে আমি মূল ধারার সঙ্গে থাকতে পেরেছিলাম বলে নিজেকে আজ ধন্য মনে হয়। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন আহমদ হোসেন। বিশ^বিদ্যালয়ের রাজনীতিতে সাফল্যের মুখ দেখেন স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে। ১৯৮২ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮৪ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৬ সালের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। তখন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে একজনই দায়িত্ব পালন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে ছাত্রলীগের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সমীকরণে তাকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ সময় সভাপতির অনুপস্থিতিতে দুই মাসের জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহŸায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বাস রেখে রাজনীতির দীর্ঘ পথ হাঁটা আহমদ হোসেন ১৯৯৩ সালে আওয়ামী লীগের ইতিহাসে প্রথমবার গঠিত উপকমিটির সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে আহমদ হোসেন বলেন, সেই সময়ে উপকমিটিতে নির্বাচিত নেতাদের বিশেষ মর্যাদা ছিল। আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সফরে যেতাম। তৃণমূলের নেতারা আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মতোই মূল্যায়ন করত। উপকমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তখন বিরোধীদলে। নেত্রী থাকেন মিন্টু রোডে। ছাত্রলীগ ছেড়ে আমরা কী করব ভাবছিলাম। তখন নেত্রী আমাদের আশ্বাস দিলেন, আমাদের জায়গা করে দিতে তৈরি করলেন উপকমিটি। সেই থেকে আওয়ামী লীগের উপকমিটির গঠন শুরু হয়।
পরপর তিনবার উপকমিটির নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহমদ হোসেন। এরপর আরও কিছুদিন কেন্দ্রীয় কমিটির ‘পর্যবেক্ষক সদস্য’ (অবজারভার মেম্বার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে দলের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। সাতজন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আহমদ হোসেনকে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পরের বছর প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলে আহমদ হোসেনকে আওয়ামী লীগের এক নাম্বার সাংগঠনিক সম্পাদক করে ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সর্বশেষ কাউন্সিলে তৃতীয়বারের মতো সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন।
সংসদ নির্বাচন কেন করতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে আহমদ হোসেন বলেন, ১৯৯১ সাল থেকেই সংসদ নির্বাচন করতে দলের মনোনয়ন চেয়ে আসছি। কিন্তু জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বাইরে কখনও যাইনি। রাজনীতির দীর্ঘ পিচ্ছিল পথে টিকে থেকেছি বলেই দেশরতœ আমাকে কেন্দ্রীয় নেতা বানিয়েছেন। অনেক অপেক্ষার পর সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করতে দলের মনোনয়ন পাওয়ার পরীক্ষাতেও আমি উত্তীর্ণ হব বলে আশা করি।
আহমদ হোসেন বলেন, আমার এলাকার মানুষকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা দেওয়ার জন্য নিজেকে সেবক হিসেবে নিয়োজিত করতে চাই। গ্রামের গরিব মানুষ বাড়িতে বিদ্যুৎ নেবে, তার জন্য ঘুষের টাকা দিতে হয়, আমি নির্বাচিত হলে ঘুষ ছাড়াই মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগ বাণিজ্য করতে দেব না, এখনও আমি আমি গরিব-দুঃখী মানুষের মধ্যে যারা যোগ্য তাদের কর্মসংস্থানে সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে পার্সেন্টেজ নেওয়ার অভিযোগ আছে। এলাকার মানুষ এসে আমার কাছে নালিশ করে, আমি যেন কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ব্যবস্থা নিই।
এলাকার মানুষ চায় আমি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে কথা বলি। আশির দশকে স্বৈরাশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে নিজের সোনালি যৌবন খরচ করেছেন আহমদ হোসেন। সেই সময়ের স্মৃতি তর্পিয়ে তিনি বলেন, আমরা গণমানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজপথে থেকেছি। এখন দলের দায়িত্ব পালন করার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয়ভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই।
সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির বাইরে গিয়ে নিজের এলাকায় সহাবস্থানের রাজনীতি চালু রাখবেন উল্লেখ করে আহমদ হোসেন বলেন, আমার এলাকার সর্বস্তরের মানুষ আমাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান।
আমি ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতি থেকে আজ কেন্দ্রীয় নেতা। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনীতি করছি। তাই মানুষের জন্য আরও ভালোভাবে কাজ করতে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার গরির ছাত্রদের জন্য বৃত্তি ফান্ড করব, যাতে অর্থের অভাবে কারও পড়াশোন বন্ধ না হয়। অনেক জায়গায় ভালো রাস্তা নেই, সেসব এলাকায় পাকা রাস্তা করব। স্বাস্থ্যসেবায় পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলোর মানুষ যাতে সহজেই ডাক্তার পান, সেই ব্যবস্থা করব। সব মানুষের জন্য আমার দরজা খোলা থাকবে।
একজন সৎ নিঃস্বার্থবান জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি সবার আস্থাবান থাকব। আহমদ হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে নিজের ভুমিকা রাখার স্বপ্ন পূরণে সবার কাছে দোয়া চাই এবং আমার এলাকার মানুষের সমর্থন চাই।


























