কলকাতা প্রতিনিধি , জনতারআদালত.কম , ২৮ জুলাই, ২০১৭ ।

বাংলাদেশের নব্য জেএমবি সদস্যদের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে কলকাতারই এক যুবক। তার মাধ্যমেই স্লিপার সেলের কাছে বিভিন্ন বার্তা পৌঁছাচ্ছে। সে নিজেও ঘনঘন ফোন করেছে বাংলাদেশে। পশ্চিমবঙ্গের বেনিয়াপুকুরের বাসিন্দা ওই যুবকই এখন ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র গোয়েন্দাদের মূল টার্গেট। জঙ্গিদের ডেরা বাঁধতে সাহায্য করার পাশাপাশি সে নিজেও জেহাদি কাজকর্ম করছে বলে সন্দেহ।
কলকাতার একটি নির্দিষ্ট নম্বরে বাংলাদেশ থেকে একাধিকবার ফোন এসেছে। যারা ফোন করেছে তারা সকলেই বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি। ওই নম্বরে আড়ি পেতে ভারতের এনআইএ জানতে পারছেন, জঙ্গিদের শুধু ডেকে আনাই হচ্ছে না, তারা কোথায় লুকিয়ে থাকবে তার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে মফদুল ইসলাম লেনের ওই যুবক।
বাংলাদেশ থেকে সন্দেহভাজনদের আসার ভিড় ক্রমশ বাড়ছে ফারুক নামে ওই যুবকের কাছে। যা থেকে গোয়েন্দারা নিশ্চিত, কলকাতার এই যুবকও জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত।
তাঁর কাছে যেসব জায়গা থেকে কল আসছে, সেখানে নব্য জেএমবিদের একাধিক প্রশিক্ষণ শিবির রয়েছে। বাংলাদেশি বিভিন্ন যুবকদের আনাগোনাও বেড়ে গিয়েছে তার কাছে। সন্দেহভাজন ওই যুবক নিজেও বাংলাদেশে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নব্য জেএমবি সংগঠনের শীর্ষ জঙ্গিদের সঙ্গে তার বৈঠকও হয়েছে।
ব্যবসার সূত্র ধরে বাংলাদেশে যাতায়াতের সুবাদেই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ। তখনই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, নব্য জেএমবি সংগঠনকে সাজিয়ে দেওয়ার। তার মাধ্যমেই এই সংগঠনের সদস্যরা কলকাতা তথা জেলার বিভিন্ন জায়গায় পা রাখছে। তাদের জন্য বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে সে। স্লিপার সেলের কাজকর্ম সে দেখভাল করছে বলে খবর।
নব্য জেএমবির সদস্যরা তার মাধ্যমে নতুন জেহাদি নিয়োগ করছে। এই সংগঠনের হয়ে যারা বিভিন্ন জেলায় কাজ করছে, তাদের কাছে টাকাপয়সা যাচ্ছে ওই যুবকের মাধ্যমেই। যদিও এই যুবক এই মুহূর্তে কলকাতায় নেই বলে খবর। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যত্র তার যাতায়াত রয়েছে। সেই বিষয়েই তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করছেন তাঁরা।


























