মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও ,
জনতারআদালত.কম , ২২ জুলাই, ২০১৭ ।

ঠাকুরগাঁও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে চলমান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ৪র্থ পর্বের ফাইনাল পরীক্ষায় বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীকে ভয় দেখিয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার পাশ করানোর কথা বলে বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। জানা যায় ভাইসপ্রিন্সিপ্যাল খরশেদ আলম ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক এন্ড টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের বিভাগীয় প্রধান কে গরম দেখিয়ে বলে আমিতো আপনার কলেজের প্রিন্সিপ্যালককেই গনায় ধরিনা তো আপনি কে। ঠাকুরগাঁও সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইন্সট্রাকটার (নন টেক) শাহজাহান আলী ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি ১০,০০০ টাকা কায়দা করে আদায় করছে। এসব অর্থ আদায় করে প্রিন্সিপ্যাল,এক্সটান্যাল ও সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষকদের মাঝে ভাগাভাগি করেন বলে জানা যায়। এই অর্থ আদায় করে দালাল শাহজাহান আলী। প্রতি ৬ মাস পর সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে পর্ব ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের সকল পাবলিক পরীক্ষায় নিয়ম রয়েছে যে কলেজের ছাত্র সেই কলেজে পরীক্ষা দিতে পারবেনা। আগে কারিগরি পরীক্ষা নেওয়ার মতো কোন প্রতিষ্ঠান না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হয়েছে। সুতরাং কলেজ বদল করে কেন পরীক্ষা নেওয়া হবেনা বিষয়টি বোধগম্য নয়। আবার পিএসসি , জেএসসি , এস এস সি , এইচ এসসি সকল পরীক্ষা আয়োজনের আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। অথচ কারিগরি পরীক্ষা গ্রহনের আগে কোন মিটিং হয়েছে বলে কেউ জানেনা। ফলে ঠাকুরগাঁও সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট মহাজনী প্রথায় নেমেছে। ৬ মাস পর পর এই সব পরীক্ষার সময় প্রশ্ন পত্র আনার ফি, কেন্দ্র ফি,বোর্ড ফি, ব্যবহারিক পরীক্ষার পাশ করানোর ফি এর নামে এসব অর্থ অবৈধ ভাবে আদায় করা হয়। এ সব অর্থের খরচের খাত বা পরিমান জানার অধিকার কারো নাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবার পর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার রুটিন আগেই দিয়ে দেওয়া হয়। রুটিন অনুসারে ২৩/০৭/১৭ ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক এন্ড টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের ছাত্র / ছাত্রীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত ছিল। ১৯/০৭/১৭ তারিখে হঠাৎ করেই জানানো হয় ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে এবং এর তা ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে কোন কর্তৃপক্ষ কোন পত্র যোগাযোগ কিংবা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জানাননি। ১৯/০৭/১৭ তারিখে টেলিফোনে আলাপ কালে শাহজাহান খুবই উত্তেজিত হয়ে বলেন “ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক এন্ড টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট কেন নিজে থেকে যোগাযোগ করেননি” তার জন্য কৈফিয়ত তলব করেন। বিষয়টি জানার পর খবর সকল ছাত্রদের মোবাইলে খবর দিয়ে ২০ জুলাই সকাল ১০ টায় পরীক্ষা হলে হাজির করানো হয়। সে সময় বহিরাগত পরীক্ষক জনাব মো: বেলালুর রহমান পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক এন্ড টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের ৪০ জন ছাত্রের জন্য দাবীকৃত ১০,০০০/= টাকা দিতে রাজী না হওয়ায় তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবেনা বলে ঘোষনা দেওয়া হয়। এবং শাহজাহান আলী হুমকি দেয় কিভাবে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক এন্ড টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের ছাত্ররা পাশ করে তা সে দেখে নিবে। পুর্ব নির্ধারিত তারিখেই পরীক্ষা নেওয়া হবে । ব্যবহারিক পরীক্ষা পাশ করানোর জন্য এক্সটারনাল এক্সামিনারের জন্য টাকা আদায়ের বিষয়ে রাজশাহী থেকে আগত এক্টারনাল এক্সামিনার জনাব বেলালুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান এই কাজের জন্য সরকারি ভাবে তাকে যে অর্থ দেওয়া হবে তার বাইরে কোন অর্থ তিনি কখনোই গ্রহন করেননা। এ ব্যপারে ঐ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পীরগঞ্জ পলিটেকনিক , লাইফ লাইন পলিটেকনিক এর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে তাদের কাছ থেকেও বরাবরের মতো ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাশের জন্য চাপ দিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত হওয়া দরকার এবং এতদ্ববিষয়ে অভিভাবকগন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহদ্বয়ের কাছে দৃষ্টি আকর্শণ করেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে অভিভাবক মহল দাবী করেছেন। উক্ত নিউজটি প্রমান সাপেক্ষে করা হয়েছে সকল তর্থ্য উপাথ্য আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।


























