ময়মনসিংহ ব্যুরো , জনতারআদালত.কম । ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ।

মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস । একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ( গেজেট নং- ৫৩১৩ ) । ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানায় অবস্থিত বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে বাবা ফরহাদ আলী ও বড়ভাই রুস্তম আলী (ভারতীয় তালিকা নং ৯৭০৫) সহ যোগ দিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীনতার চার মাস পূর্বে ১৯৭১ সালের আগষ্ট মাসের ৮ তারিখ ময়মনসিংহ জেলার কুখ্যাত রাজাকার মাওলানা আব্দুল্লাহ’র নেতৃত্বে রাজাকার মকবুল হোসেন, আব্দুল হক, আব্দুল মালেক, শাবান আলী, রশিদ গাজী, আব্দুর রশীদ ফকির সহ কতিপয় রাজাকারগণ একত্রিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ীঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়, তাঁর মাকে নির্যাতন করে, তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও ভাইকে অত্যাচার করতে করতে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁর ভাইকে শহীদ করে লাশ গুম করে কুখ্যাত রাজাকারের দল ।
তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ আলীকে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে তাঁর শরীর থেকে মাংস কেটে কেটে ক্ষুদার্ত কুকুরকে খেতে দেয়া হয়।দেশ স্বাধীনের পর অত্যাচারিত মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ আলীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হলেও তাঁকে বাচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখিত রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীর মামলা করার আক্রোসে বিগত ০৬/০৬/২০১৫ তারিখে দিবাগত রাত ৩ টায় মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ীঘর লুটপাট করে আবারো পুড়িয়ে দেয়া হয়।মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস পরবর্তীতে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা করেন।যাহার জি আর নং- ১৪০/১৫ ।
মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের ভাষ্যমতে, মুসলিমলীগ নেতার সন্তান ও যুদ্ধকালীন সময়ে ত্রিশাল থানার রাজাকার ওসি মোঃ ফারুকের ভাই বিএনপি-জামাত শাসন আমলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অনুপ্রবেশকারী জনাব কামাল পাশা স্ব-উদ্যোগে তদন্তের নামে ফুলবাড়িয়ায় গিয়ে রাজাকার মাওলানা আব্দুল্লাহ’র কাছ থেকে প্রচুর উৎকোচ নিয়ে আব্দুল কুদ্দুসকে মামলা উঠিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করে, অন্যথায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুসের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিল করে দেয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস মনে করেন, একমাত্র তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা কামাল পাশা’র প্ররোচনায় আজ ফুলবাড়িয়াসহ সমগ্র ময়মনসিংহের রাজাকার সদস্যগণ বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।
এতকিছু করেও ক্ষান্ত হয়নি বিদ্যানন্দ ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল কুখ্যাত রাজাকার মাওলানা আব্দুল্লাহ সহ উল্লেখিত রাজাকারের দল।আসন্ন ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস সহ পরিবারের সকল সদস্যদের লাশ টুকরো টুকরো করে কুকুরকে খাওয়াবে বলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে ।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা কামনা করেন ও এ সকল কুখ্যাত রাজাকারের বিচার দাবী করেন ।


























