রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর , জনতারআদালত.কম । ২৫ অক্টোবর, ২০১৭ ।

জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের রণরামপুর উত্তরপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাড়ীঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনটি ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণলংকার ও দুটি গরু নিয়ে গেছে দূর্বৃত্তরা।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজনেরা জানায়, মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ করে একই এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে এমদাদুল হক এমদাদের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজারের বেশি লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলায় চালায়। এ সময় তারা হযরত আলীর ছেলে খোরশেদ আলম, আজিজুল হক ও রাসেলর বাড়ীঘরে হামলা আসবাবপত্র ও বিভিন্ন স্বর্ণালংকা লুট করে ও একটি রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনোয়ার বেগম (৪০), লাইলী বেগম (৪৫), চাঁন মিয়া (৫০) ও মমতা বেগম (৩৫) গুরুত্বর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরিফপুর ইউনিয়নের রণরামপুর গ্রামে মৃত আব্দুল মজিদের পুত্র এমদাদুল হকের সাথে প্রতিবেসী মৃত তনু মাহম্মুদ মন্ডলের পুত্র হযরত আলী ও তার ভাইদের সাধে ৭২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি নিয়ে একটি বিরোধ চলছিল।
এলাকায় এ নিয়ে বেশ কয়েকবার শালিশ বৈঠকও হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার সমাধান না হওয়ার কারনে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গতকাল প্রকাশ্য দিবালোকে প্রায় শতাধিক ভারাটিয়া অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ৩টি বসত ঘরে হামলা চালায়। এছাড়া চলে যাওয়ার সময় একটি ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ ঘটনায় নারীসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়। আহতদেরকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার সাথে অভিযুক্ত ৪ জনকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে হামলার স্বীকার খোরশেদ আলমের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম (৪৫) বলেন, আমি কিছুদিন আগে মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। সন্ত্রাসীরা আমার ঘরে প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছেন। ঘরের আলমারী খোলে নগদ ১ লক্ষ টাকা ৬ ভরী স্বর্ণ অলংকার ও দামি আসবাসপত্র নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমাদের ৩টি পরিবারের বসতঘর সহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে তারা। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।


























